জুলাইয়ের অনুষ্ঠান থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেরিয়ে গেলেন এনসিপি নেতৃত্ব

জুলাইয়ের অনুষ্ঠান থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেরিয়ে গেলেন এনসিপি নেতৃত্ব
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ৩:৪৬ PM

জুলাই কেন্দ্রিক এক বিশেষ স্মরণসভায় তথ্যচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হলো। বাকবিতণ্ডা ও চরম বিশৃঙ্খলার মুখে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা।

ঘটনার সূত্রপাত আয়োজিত অনুষ্ঠানের একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রদর্শিত তথ্যচিত্রটির কিছু অংশ এবং উপস্থাপনা নিয়ে আপত্তি জানান এনসিপি নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, তথ্যচিত্রে সংবেদনশীল বিষয় ও ইতিহাসকে একপেশে ও ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তথ্যচিত্র চলাকালেই এনসিপি নেতাদের আপত্তির মুখে আয়োজকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই তর্ক বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয় এবং উপস্থিত অন্যান্য শ্রোতা ও অংশগ্রহণকারীদের একাংশের হট্টগোলে অনুষ্ঠানস্থলের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও দু'পক্ষের তর্কের তীব্রতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে এনসিপি-র শীর্ষ নেতারা দলবদ্ধভাবে অনুষ্ঠান বয়কট করে বেরিয়ে যান।

ঘটনার বিষয়ে এনসিপি-র এক শীর্ষ নেতা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, "জুলাইয়ের ইতিহাস ও স্মৃতি নিয়ে কোনো প্রকার ভুল ব্যাখ্যা বা নিরপেক্ষতাহীন উপস্থাপনা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আয়োজকদের এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল।"

অন্যদিকে, আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে আঘাত করার জন্য এই তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়নি। সম্পূর্ণ ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত এবং ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চর্চা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন:

রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে মেধার গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে মেধার গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ এ ৩:৩৪ PM

সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে রাজনৈতিক নয়, মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা সেনানিবাসে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ গ্রহণযোগ্য নয়। একটি আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী গঠনে মেধা, সততা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলী এবং পেশাগত যোগ্যতাই পদোন্নতির একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর পুনর্গঠনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পাশাপাশি তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী সেনা সদস্য এবং সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর সকলকে ধন্যবাদ দেন তিনি।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। সেনাপ্রধান তাঁর উপস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সেনাসদরের পরিদর্শক বইয়ে তাঁর মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।

শেয়ার করুন:

দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভ্রমণ ভিসায় ভারত-বাংলাদেশ যাত্রী পারাপার শুরু হলো।

দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভ্রমণ ভিসায় ভারত-বাংলাদেশ যাত্রী পারাপার শুরু হলো।
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ এ ৩:১৫ PM

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে আজ থেকে ভ্রমণ (ট্যুরিস্ট) ভিসায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাধারণ যাত্রী পারাপার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের পর্যটন, সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটলো।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে প্রথম একজন বাংলাদেশি যাত্রী ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। ইমিগ্রেশন ও বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, দুই বছর পর ভ্রমণ ভিসা নিয়ে পার হওয়া প্রথম বাংলাদেশি যাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা। তিনি গত ২৮ জুন ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন এবং গতকাল ৮ জুলাই ৬ মাস মেয়াদি মাল্টিপল ভিসা হাতে পান।

আজ সকাল থেকেই আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দুই দেশের যাত্রীদের আনাগোনা বাড়তে দেখা গেছে। ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রহিম জানান,

"বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম ভ্রমণ ভিসার যাত্রী ভারতে গেছেন। ভ্রমণ ভিসা পুরোদমে চালু হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে যাত্রী পারাপার এবং ব্যস্ততা আরও অনেক বাড়বে।"

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল ভারত। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা (মেডিকেল) ও ব্যবসায়িক (বিজনেস) ভিসা সীমিত পরিসরে চালু করা হলেও সাধারণ পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা দীর্ঘ দুই বছর ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

সম্প্রতি ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনরায় ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেন। সেই অনুযায়ী, গত ২৮ জুন থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনাসহ দেশের প্রধান ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোতে (IVAC) একযোগে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। গতকাল ৮ জুলাই থেকে আবেদনকারীরা হাতে ভিসা পেতে শুরু করেন এবং আজ ৯ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

শেয়ার করুন: