পিরোজপুরের নেছারাবাদে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় গলাকাটা ও মাথাবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহত ব্যক্তি গোপাল চন্দ্র দাস, যার বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গণপাড়া গ্রামে। শনিবার (১৪ মার্চ) নিহতের স্বজনেরা মরদেহ শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মামুন মিয়ার ইটভাটার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে সন্ধ্যা নদীর তীর থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মো. মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে এবং ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত চলছে। পুলিশ ইতোমধ্যে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল সংলগ্ন সন্ধ্যা নদী ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে শনিবার রাত পর্যন্ত নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথার সন্ধান মেলেনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় সম্রাট ও রাজু নামের দুজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই সন্দেহভাজনদের পরিচয় নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়াই সমীচীন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহতকে অন্য কোনো স্থান থেকে এনে নির্জন এলাকায় হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর মরদেহটি সন্ধ্যা নদীর পাড়ে ফেলে রাখা হয়। তবে হত্যার কারণ, ঘটনার প্রকৃত সময় এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আলামত সংগ্রহের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।








