ঢাকা মহানগরসহ দেশের ছয়টি এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

ঢাকা মহানগরসহ দেশের ছয়টি এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ এ ২:৪৩ PM

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কায় ঢাকাসহ দেশের ৩টি মহানগর এবং ৩টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব এলাকায় নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের আগামী ৯ দিনের জন্য বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন ও চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। আজ সোমবার থেকেই এই আদেশ কার্যকর হয়েছে, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

যেসব এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন:

বিশেষ এই আদেশ কার্যকর হবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায়। এসব এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে (ডেপুটেশনে) নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ভোগ করবেন।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও নাশকতার আশঙ্কা:

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এর মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

২৩ জুন মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, এই দিনটিকে কেন্দ্র করে দলটি বেআইনিভাবে মিছিল বা শোডাউন করার চেষ্টা করতে পারে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়।

কর্মকর্তারা যেসব আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন:

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধির (১৮৯৮) নির্দিষ্ট কিছু ধারা (যেমন: ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২) অনুযায়ী অপরাধ আমলে নিতে পারবেন। এর ফলে তারা বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা, অপরাধীকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

শেয়ার করুন:

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল ঘোষণা যে কোন সময়: মুখ্য সচিব

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল ঘোষণা যে কোন সময়: মুখ্য সচিব
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ৩:০৪ PM

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ এখন চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে এবং যেকোনো সময় এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বেতন কাঠামো হালনাগাদ করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এটি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। বাজার পরিস্থিতি ও উৎপাদন শৃঙ্খলের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদনে যে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছে, তা দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নবম বেতন কমিশনের কাজ শেষ হলে তা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে এবং অনুমোদন পেলেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে গঠিত ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি এ সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এ পর্যন্ত আটবার নতুন পে-স্কেল জারি করা হয়। এর মধ্যে সর্বশেষ বেতন স্কেলটি দেওয়া হয়েছিল ২০১৫ সালে।

শেয়ার করুন:

১৬ আগস্ট শুরু ফ্যামিলি কার্ড প্রদান: ৪ বছরে আওতায় আসছে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

১৬ আগস্ট শুরু ফ্যামিলি কার্ড প্রদান: ৪ বছরে আওতায় আসছে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ৩:৫৭ PM

কিশোরগঞ্জের লতিফাবাদ ইউনিয়ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচি। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। পরীক্ষামূলক ধাপ শেষে আগামী অক্টোবরের মধ্যে সারা দেশের সকল উপজেলা ও ইউনিয়নে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত তথ্য হালনাগাদের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে এবং আগামী চার বছরে মোট ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী চার বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। এটি পরিচালিত হবে একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে, যেখানে মানুষের আয় ও জীবনের মান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তথ্য আপডেট হতে থাকবে। ফলে দরিদ্র থেকে কেউ মধ্যবিত্ত হলে বা নতুন করে কেউ কষ্টে পড়লে তা তালিকায় উঠে আসবে। একইসঙ্গে যোগ্য ব্যক্তিরা যেন কার্ড পান এবং অযোগ্যরা বাদ পড়েন, সে জন্য ইউনিয়ন স্তরেই তথ্য যাচাই করা হবে। মূলত ভাতা ও সাহায্য বিতরণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই সরকারের এই উদ্যোগ।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এ কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিশেষ সুযোগ দেওয়া বা বঞ্চিত করার অবকাশ থাকবে না। এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার অংশ।

এ ছাড়া, সহায়তার অর্থ পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এতে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টির পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন, সেলাই ও কুটির শিল্পের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোগ বাড়বে, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

কর্মসূচির নীতিমালার সব তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত থাকবে। কার্যক্রমটি কতটা কার্যকর হচ্ছে তা মূল্যায়নে অর্থ বিভাগ, আইএমইডি এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন গবেষণা পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটির খবর এলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

শেয়ার করুন: