রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে চট্টগ্রাম: ৩ জেলায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত

রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে চট্টগ্রাম: ৩ জেলায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত
চট্টগ্রামে বৃষ্টি রেকর্ড , ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ এ ১:০১ AM

টানা তিন দিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সবই এখন পানির নিচে।নজিরবিহীন এই জলাবদ্ধতায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো নগরী, যার জেরে চট্টগ্রামসহ তিন জেলার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রবল সক্রিয়তায় চট্টগ্রামে স্মরণকালের রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান জানান, মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির তীব্রতা অনেক বেড়েছে। নিম্নচাপটি ভারতের ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার দিকে সরে গেলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে আগামী অন্তত এক সপ্তাহ এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।ভারী বৃষ্টিতে নগরের আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাপাসগোলা, চান্দগাঁও, হালিশহর ও পতেঙ্গাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহদ্দারহাটের বাসিন্দা আহমেদ রেজা জানান, সকালে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় তড়িঘড়ি করে আসবাবপত্র সরাতে হয়েছে, বৃষ্টির কারণে ঘর থেকেও বের হওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে অতিবর্ষণের জেরে নগরীতে দেয়াল ধসে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও চারজন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রামীণ উপজেলাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।নজিরবিহীন এই জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগেও। নগরের মুরাদপুর এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ হাজার যাত্রী নিয়ে আটকে পড়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’। অন্যদিকে রেললাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি দোহাজারী স্টেশনে আটকা পড়ে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানান, রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় জান আলী হাট ও লোহাগাড়ায় ট্রেন আটকে যায়। পরবর্তীতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে পর্যটক এক্সপ্রেসের পেছনে আরেকটি ইঞ্জিন লাগিয়ে ট্রেনটিকে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়। রেল চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।

ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন তিন জেলার আজকের (বুধবার, ৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো—চট্টগ্রাম, রাঙামাটি এবং কক্সবাজার। স্থগিত হওয়া এই পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

তবে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে থাকা অন্য দুই জেলা—বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে পরীক্ষা যথারীতি চলবে। পাশাপাশি দেশের বাকি সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাও পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

শেয়ার করুন:

১৬ আগস্ট শুরু ফ্যামিলি কার্ড প্রদান: ৪ বছরে আওতায় আসছে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

১৬ আগস্ট শুরু ফ্যামিলি কার্ড প্রদান: ৪ বছরে আওতায় আসছে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ৩:৫৭ PM

কিশোরগঞ্জের লতিফাবাদ ইউনিয়ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচি। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। পরীক্ষামূলক ধাপ শেষে আগামী অক্টোবরের মধ্যে সারা দেশের সকল উপজেলা ও ইউনিয়নে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত তথ্য হালনাগাদের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে এবং আগামী চার বছরে মোট ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী চার বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। এটি পরিচালিত হবে একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে, যেখানে মানুষের আয় ও জীবনের মান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তথ্য আপডেট হতে থাকবে। ফলে দরিদ্র থেকে কেউ মধ্যবিত্ত হলে বা নতুন করে কেউ কষ্টে পড়লে তা তালিকায় উঠে আসবে। একইসঙ্গে যোগ্য ব্যক্তিরা যেন কার্ড পান এবং অযোগ্যরা বাদ পড়েন, সে জন্য ইউনিয়ন স্তরেই তথ্য যাচাই করা হবে। মূলত ভাতা ও সাহায্য বিতরণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই সরকারের এই উদ্যোগ।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এ কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিশেষ সুযোগ দেওয়া বা বঞ্চিত করার অবকাশ থাকবে না। এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার অংশ।

এ ছাড়া, সহায়তার অর্থ পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এতে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টির পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন, সেলাই ও কুটির শিল্পের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোগ বাড়বে, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

কর্মসূচির নীতিমালার সব তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত থাকবে। কার্যক্রমটি কতটা কার্যকর হচ্ছে তা মূল্যায়নে অর্থ বিভাগ, আইএমইডি এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন গবেষণা পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটির খবর এলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

শেয়ার করুন:

রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে মেধার গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে মেধার গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ এ ৩:৩৪ PM

সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে রাজনৈতিক নয়, মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা সেনানিবাসে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ গ্রহণযোগ্য নয়। একটি আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী গঠনে মেধা, সততা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলী এবং পেশাগত যোগ্যতাই পদোন্নতির একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর পুনর্গঠনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পাশাপাশি তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী সেনা সদস্য এবং সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর সকলকে ধন্যবাদ দেন তিনি।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। সেনাপ্রধান তাঁর উপস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সেনাসদরের পরিদর্শক বইয়ে তাঁর মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।

শেয়ার করুন:
রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে চট্টগ্রাম: ৩ জেলায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত