Bartalive24
সর্বশেষবাংলাদেশরাজনীতিঅর্থনীতিবিশ্বখেলাপ্রযুক্তিবিনোদনস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলচাকরিমতামত

মেয়েদের ডিগ্রী ও স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষা ফ্রি ঘোষনা করলেন প্রধানমন্ত্রী

মেয়েদের ডিগ্রী ও স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষা ফ্রি ঘোষনা করলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ এ ৩:৫৬ PM

দেশের নারী শিক্ষার প্রসারে এবং উচ্চশিক্ষার হার বৃদ্ধিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সোমবার সকালে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্নাতক ও ডিগ্রী পর্যায়ে অধ্যয়নরত সকল ছাত্রীর শিক্ষা অবৈতনিক বা ফ্রি করার ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়ুয়া ছাত্রীরা এখন থেকে টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষাকে মেট্রিক (এসএসসি) পর্যন্ত এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে ইন্টারমিডিয়েট (এইচএসসি) পর্যন্ত ফ্রি করেছিলেন। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপ সেই অসমাপ্ত কাজ পূরণের একটি ধারাবাহিক প্রয়াস। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার চায় নারীরা যেন উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পায়। আর্থিক প্রতিবন্ধকতা যেন তাদের শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে যশোরের জনসভায় বলেছিলাম, ইনশাআল্লাহ জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। সরকার পরিচালনার সুযোগ পেয়ে বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু করেছে। বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমরা যা বলি তাই করি। আমরা কথা মালার রাজনীতি করি না।

শেয়ার করুন:

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় তেলবাজারে অস্থিরতা, বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় তেলবাজারে অস্থিরতা, বাড়ছে উদ্বেগ
জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার। ছবি : লুসিও মেদেইরোস
অনলাইন ডেস্কবুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬ এ ৫:২৪ PM

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। অনেক বিশ্লেষকই সতর্ক করছেন, চরম পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তব—তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু বড় ধরনের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল বিশ্ববাজারে আসে এবং এর একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথটিতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা সরাসরি বৈশ্বিক সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে এবং খুব দ্রুত দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

একই সঙ্গে কৌশলগত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে সংরক্ষিত তেল মজুত প্রায় ৯০ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হলেও বাস্তবে তা দ্রুত ও সমন্বিতভাবে বাজারে ছাড়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অতীতে বড় সংকটের সময় এই মজুত ব্যবহার করেও দামের ঊর্ধ্বগতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

অন্যদিকে, পরিশোধন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে। অনেক রিফাইনারি ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কাজ করছে, ফলে অতিরিক্ত কাঁচা তেল সরবরাহ হলেও তা দ্রুত ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয় না। এতে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম আরও বেশি অস্থির হয়ে ওঠে।

বিশ্ব আর্থিক বাজারও তেলের দামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বড় বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী ও হেজ ফান্ডগুলোর কার্যক্রম অনেক সময় বাস্তব চাহিদা-সরবরাহের বাইরে গিয়ে দামের ওঠানামা বাড়িয়ে দেয়। অনিশ্চয়তার সময়ে বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম যুক্ত হয়, যা দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে হলে একাধিক বড় ঘটনা একসঙ্গে ঘটতে হবে—যেমন বড় আকারের যুদ্ধ, গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অথবা প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া। এসব ঘটনার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও তা এখনো তুলনামূলকভাবে কম।

অন্যদিকে, তেলের দাম বেশি বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা কমতে শুরু করে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ কমানোর চেষ্টা করে, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং সাধারণ মানুষও ব্যবহার কমিয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়াকে ‘ডিমান্ড ডেস্ট্রাকশন’ বলা হয়, যা শেষ পর্যন্ত দামের ঊর্ধ্বগতি থামাতে ভূমিকা রাখে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ১৩০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে আবার চাহিদা কমে গিয়ে তেলের দাম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষণ বলছে, তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানো সম্ভব হলেও তা নির্ভর করছে চরম পরিস্থিতির ওপর। বর্তমান বাস্তবতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। তবে বৈশ্বিক উত্তেজনা ও সরবরাহ ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:

দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর, খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন

দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর, খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্কসোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ এ ৬:২১ AM

দিনাজপুর সফরে গিয়ে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। পরে সড়কপথে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচির সূচনা করেন।

সরকারি সূত্র জানায়, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকায় প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা হয়। একই সময় ভার্চুয়াল সংযোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনরুদ্ধার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং কৃষকদের জন্য সেচব্যবস্থা সহজ করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। পরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সড়কপথে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় যান তিনি। সেখানে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হন।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদী-নালা, খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে বিভিন্ন জেলায় খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতে কৃষি সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, পানি সংরক্ষণ সহজ হবে এবং বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষকরা সারা বছর সেচ সুবিধা পাবেন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পানি সংরক্ষণও সহজ হবে।

খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর দিনাজপুর শহরে একটি সুধী সমাবেশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বহু খাল ও জলাধার দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকায় পানি প্রবাহ কমে গেছে এবং অনেক জায়গায় সেচব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব খাল পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার করা গেলে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দিনাজপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিকে তাই সরকারের পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের কৃষি, পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শেয়ার করুন:

আরও পড়ুন

মন্তব্য (0)

মেয়েদের ডিগ্রী ও স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষা ফ্রি ঘোষনা করলেন প্রধানমন্ত্রী