Bartalive24
সর্বশেষবাংলাদেশরাজনীতিঅর্থনীতিবিশ্বখেলাপ্রযুক্তিবিনোদনস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলচাকরিমতামত

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় তেলবাজারে অস্থিরতা, বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় তেলবাজারে অস্থিরতা, বাড়ছে উদ্বেগ
জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার। ছবি : লুসিও মেদেইরোস
অনলাইন ডেস্কবুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬ এ ৫:২৪ PM

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। অনেক বিশ্লেষকই সতর্ক করছেন, চরম পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তব—তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু বড় ধরনের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল বিশ্ববাজারে আসে এবং এর একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথটিতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা সরাসরি বৈশ্বিক সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে এবং খুব দ্রুত দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

একই সঙ্গে কৌশলগত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে সংরক্ষিত তেল মজুত প্রায় ৯০ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হলেও বাস্তবে তা দ্রুত ও সমন্বিতভাবে বাজারে ছাড়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অতীতে বড় সংকটের সময় এই মজুত ব্যবহার করেও দামের ঊর্ধ্বগতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

অন্যদিকে, পরিশোধন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে। অনেক রিফাইনারি ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কাজ করছে, ফলে অতিরিক্ত কাঁচা তেল সরবরাহ হলেও তা দ্রুত ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয় না। এতে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম আরও বেশি অস্থির হয়ে ওঠে।

বিশ্ব আর্থিক বাজারও তেলের দামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বড় বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী ও হেজ ফান্ডগুলোর কার্যক্রম অনেক সময় বাস্তব চাহিদা-সরবরাহের বাইরে গিয়ে দামের ওঠানামা বাড়িয়ে দেয়। অনিশ্চয়তার সময়ে বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম যুক্ত হয়, যা দামের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে হলে একাধিক বড় ঘটনা একসঙ্গে ঘটতে হবে—যেমন বড় আকারের যুদ্ধ, গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অথবা প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া। এসব ঘটনার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও তা এখনো তুলনামূলকভাবে কম।

অন্যদিকে, তেলের দাম বেশি বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা কমতে শুরু করে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ কমানোর চেষ্টা করে, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং সাধারণ মানুষও ব্যবহার কমিয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়াকে ‘ডিমান্ড ডেস্ট্রাকশন’ বলা হয়, যা শেষ পর্যন্ত দামের ঊর্ধ্বগতি থামাতে ভূমিকা রাখে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ১৩০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে আবার চাহিদা কমে গিয়ে তেলের দাম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষণ বলছে, তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানো সম্ভব হলেও তা নির্ভর করছে চরম পরিস্থিতির ওপর। বর্তমান বাস্তবতায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। তবে বৈশ্বিক উত্তেজনা ও সরবরাহ ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:

অপরিবর্তিত থাকছে মে মাসের তেলের দাম

অপরিবর্তিত থাকছে মে মাসের তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদকশুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ এ ৩:৪৮ AM

মে মাসেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম।আগামী মে মাসে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দামে কোনো পরিবর্তন আসছে না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রল আগের নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয় বিবেচনা করে সরকার এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ মে থেকে নতুন এই আদেশ কার্যকর হবে।

শেয়ার করুন:

সয়াবিন তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি, লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দর ১৯৯ টাকা

সয়াবিন তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি, লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দর ১৯৯ টাকা
প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদকবুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ এ ২:০১ PM

দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯ টাকা, যা আগে ছিল ১৯৫ টাকা।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ৫ লিটারের একটি বোতলের দাম ৯৫৫ টাকা থেকে বেড়ে ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৮৯ টাকা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) ভোজ্য তেলের মূল্য পর্যালোচনা সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এই সংশোধিত দাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ওঠানামা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে উভয় ক্ষেত্রেই দাম বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এতে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন:

আরও পড়ুন

মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!