Bartalive24
সর্বশেষবাংলাদেশরাজনীতিঅর্থনীতিবিশ্বখেলাপ্রযুক্তিবিনোদনস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলচাকরিমতামত

পানিতে নেমে আলু তুলছেন কৃষকেরা, কেজিতে লোকসান ৬-৭ টাকা !

পানিতে নেমে আলু তুলছেন কৃষকেরা, কেজিতে লোকসান ৬-৭ টাকা  !
অকালবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় উত্তরাঞ্চলে পানির মধ্যে নেমে আলু তুলছেন কৃষকেরা । ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদকরবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬ এ ৫:৪৪ AM

অকালবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বাজারে দরপতনের ত্রিমুখী চাপে উত্তরাঞ্চলের আলুচাষিরা এবার চরম সংকটে পড়েছেন। মাঠে জমে থাকা পানির মধ্যে নেমে কোথাও আলু তুলতে হচ্ছে, কোথাও আবার জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে আলুখেত। এর মধ্যেই উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর অনেক নিচে নেমে আসায় কৃষকদের লোকসান আরও বেড়েছে।

সাম্প্রতিক অকালবৃষ্টি ও কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিতে রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আলুচাষপ্রধান জেলায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি ও ভিডিওতেও সেই বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। কোথাও কৃষকদের জমে থাকা পানির মধ্যে নেমে আলু তুলতে দেখা গেছে, আবার কোথাও জলাবদ্ধতায় আলুখেত ডুবে থাকার দৃশ্য সামনে এসেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, এই বৃষ্টি শুধু মাঠের ফসলের ক্ষতির ঝুঁকিই বাড়ায়নি, আলু তোলা, শুকানো ও সংরক্ষণের কাজও কঠিন করে তুলেছে।

কৃষকেরা বলছেন, চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ১৬ টাকা। কিন্তু বাজারে সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১০ টাকায়। ফলে প্রতি কেজিতে গড়ে ৬ থেকে ৭ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় উৎপাদন খরচ আগের বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ মৌসুমে আলুর উৎপাদন ভালো হলেও তা কৃষকদের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসেনি। বরং উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং অনেক এলাকায় দাম উৎপাদন খরচের সমান বা তারও নিচে নেমে গেছে। এতে আগে থেকেই লোকসানে থাকা কৃষকেরা আরও চাপে পড়েছেন।

এর মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে অকালবৃষ্টির ধাক্কা। যেসব কৃষক এখনো পুরোপুরি আলু তুলতে পারেননি, তাঁরা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। কারণ, মাঠে ভেজা অবস্থায় আলু বেশিক্ষণ পড়ে থাকলে পচন ধরে, দাগ পড়ে এবং মান নষ্ট হয়ে যায়। একই সঙ্গে তোলার পর খোলা জায়গায় শুকাতে রাখা আলুও বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, আলুচাষিরা এবার একসঙ্গে কয়েকটি চাপের মুখে পড়েছেন—বাড়তি উৎপাদন ব্যয়, বাজারে দরপতন, হিমাগারে সংরক্ষণ ব্যয়ের চাপ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার ক্ষতি। এই পরিস্থিতিতে অনেক কৃষকের জন্য এ মৌসুমে লাভের আশা প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন, বৃষ্টির পর জমি থেকে দ্রুত পানি সরিয়ে ফেলতে হবে, তোলা আলু শুকনো ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত আলু আলাদা করে বাছাই করতে হবে। তা না হলে সংরক্ষণের সময় পচন আরও বাড়তে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত বাজারে হস্তক্ষেপ, হিমাগার ভাড়া যৌক্তিক রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা দেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। টানা লোকসানের কারণে আগামী মৌসুমে আলুর আবাদ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

শেয়ার করুন:

"সকলের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ই-হেলথ কার্ড চালু করা হবে।"

"সকলের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ই-হেলথ কার্ড চালু করা হবে।"
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬ এ ৩:৩২ PM

সরকারের ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ই-হেলথ কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতের সরকারি দর্শন অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবনিযুক্ত সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালটি প্রথমবারের মতো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে, জেলা, উপজেলা এবং মেডিকেল কলেজগুলোতে চিকিৎসার মানোন্নয়ন ও জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। হাসপাতালের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে সীমিত অবকাঠামো ও জনবল সংকটের মধ্যেই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সেবা দিচ্ছে এই হাসপাতালটি। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী ভর্তি থাকেন, যার ফলে করিডোর এমনকি মেঝেতেও রোগীদের অবস্থান করতে হয়। এই ভোগান্তি লাঘবে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ৫০০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন খালেদুর রহমান মিয়া, পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিন রুপাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন:

নুসরাত তাবাসসুমকে এমপি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন

 নুসরাত তাবাসসুমকে এমপি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন
সংগৃহীত ছবি
অনলাইন ডেস্কমঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ এ ৯:৪৯ AM

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। মঙ্গলবার তার নামে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান সাংবাদিকদের জানান, নুসরাত তাবাসসুমকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ সম্পন্ন হয়েছে।

ঘটনার শুরু গত ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর আবেদন করায় নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র প্রথমে গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপর তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত নির্বাচন কমিশনকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের ভিত্তিতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ২ মে তা বৈধ ঘোষণা করে ইসি।

একই জোট থেকে এনসিপির আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র সরকারি চাকরি সংক্রান্ত জটিলতায় বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন এবং গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দেন। তবে সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ রিটটি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করে অন্য বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরপর কোনো আদালতি বাধা না থাকায় সোমবার রাতেই গেজেট প্রকাশ করে ইসি।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জন আগেই শপথ নিয়েছিলেন। নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সর্বশেষ আসনটিও পূর্ণ হলো। তিনি এই আসনের ৫০তম সংসদ সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলেন।

শেয়ার করুন: