ইরানে মার্কিন হামলা, বিশ্ববাজারে ফের বাড়লো তেলের দাম

ইরানে মার্কিন হামলা, বিশ্ববাজারে ফের বাড়লো তেলের দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬ এ ৮:১৪ AM

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আশা ম্লান করে ইরানে আবারও মার্কিন সামরিক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকস্মিক এই পদক্ষেপের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেল প্রতি প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির গুঞ্জন চলায় তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। কিন্তু হঠাত করেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ড্রোন ঘাঁটিতে 'আত্মরক্ষামূলক' নতুন হামলা চালালে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ফলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সপ্তাহের শুরুতে প্রায় ১০০ ডলারে স্পর্শ করেছিল।

এই হামলার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'স্ট্রেইট অব হরমুজ' বা হরমুজ প্রণালী দ্রুত সচল হওয়ার সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হয়ে গেল। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা এই সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি মজুদ আশঙ্কাজনক স্তরে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই সামরিক উত্তেজনা বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আরও বাড়বে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি এবং পরিবহন খরচ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইউনিসেফ তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে

বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইউনিসেফ তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ এ ৪:২৬ PM

দেশে সম্প্রতি শিশু ও নারীদের ওপর বর্বর সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটির মতে, শিশুরা যে জায়গাগুলোতে নিরাপদে থাকার কথা, সেখানেই এখন নির্মমতার শিকার হচ্ছে। শুক্রবার ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এক বিবৃতিতে জানান, শিশুদের ওপর চলমান এই পাশবিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

রানা ফ্লাওয়ার্স তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন ও পাশবিক নির্যাতন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে শিশু এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দেয়। তিনি অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতির অবসান দাবি করেন এবং একই সাথে প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সহিংসতা রিপোর্টিং, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশু-বান্ধব পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা এবং সামাজিক সেবা খাতের ঘাটতিগুলো দ্রুত দূর করার তাগিদ দেন।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সমাজের নীরবতার সুযোগেই সহিংসতা ডালপালা মেলে। তাই সহিংসতা, নির্যাতন বা শোষণের ঘটনা ঘটলে তা চেপে না রেখে অবিলম্বে শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮-সহ অন্যান্য সুরক্ষা সেবার মাধ্যমে রিপোর্ট করার জন্য ইউনিসেফের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বিবৃতিতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের পরিচয় কিংবা কোনো ছবি-ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এক ধরনের মানসিক পুনর্নির্যাতন। যারা এই ধরণের কনটেন্ট শেয়ার বা রি-শেয়ার করছেন, তারা মূলত ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মানসিক বেদনা ও ট্রমাকে আরও গভীর করে তুলছেন।নারী ও শিশুদের সামগ্রিক মানসিক ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি। এর পাশাপাশি তিনি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, সামাজিক এলাকা এবং কেয়ার সেন্টারসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধির তাগিদ দেন।ফলশ্রুতিতে, সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতি ভুক্তভোগীদের আইনি ও মানবিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট ছবি-ভিডিও প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিশেষে রানা ফ্লাওয়ার্স উল্লেখ করেন যে, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার কিংবা গণপরিসর—যেকোনো জায়গাতেই শিশুদের ছবি বা বিবরণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সামগ্রিক সুরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করতে তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তোলার তাগিদ দেন।

শেয়ার করুন:

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রাথকে গুলি করে হত্যা

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রাথকে গুলি করে হত্যা
গুলি করে খুন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে!
অনলাইন ডেস্কবুধবার, ৬ মে, ২০২৬ এ ৯:০৫ PM

মধ্যমগ্রাম (উত্তর ২৪ পরগনা), ৬ মে — সদ্য সম্পন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার আবহে আরও একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটল। বিজেপির বিরোধীদলীয় নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রাথকে বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রনাথ রাথ তাঁর কালো রঙের স্করপিও গাড়িতে বসে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছিলেন। গাড়িতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্টিকার লাগানো ছিল। এই সময় মোটরবাইকে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী একেবারে কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনায় মোট চারটি গুলি ছোড়া হয়, তার মধ্যে তিনটি গুলি চন্দ্রনাথ রাথের শরীরে লাগে — দুটি বুকে এবং একটি পেটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনায় চন্দ্রনাথের গাড়িচালকও আহত হন। তাঁকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলির আঘাতে গাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায়।

"এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস এবং মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রতিন ঘোষ সরাসরি দায়ী।"

— শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধীদলীয় নেতা, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা

খবর পেয়ে শুভেন্দু অধিকারী নিজে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাঁর সঙ্গে আসেন প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সিআরপিএফের মহাপরিচালক জিপি সিংও ঘটনাস্থলে আসার কথা জানানো হয়।

চন্দ্রনাথ রাথ ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) প্রাক্তন কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করতেন এবং বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতার কার্যনির্বাহী সহকারীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সম্পন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৫ বছর পর তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী নিজেও তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর রাজনৈতিক ঘাঁটি ভবানীপুরে ১৫,০০০ এরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন। এই নির্বাচনের ফলাফলের পর রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার একাধিক ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করলেও বিজেপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির পাল্টা অভিযোগ, গত তিন দিনে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের হাতে তিনজন তৃণমূল কর্মী নিহত হয়েছেন। পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলাকারীদের পরিচয় ও হত্যার উদ্দেশ্য নিশ্চিত করেনি এবং তদন্ত চলছে।

শেয়ার করুন:
ইরানে মার্কিন হামলা, বিশ্ববাজারে ফের বাড়লো তেলের দাম