মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী পেলেন রাজকীয় লাল গালিচা সংবর্ধনা

মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী পেলেন রাজকীয় লাল গালিচা সংবর্ধনা
ছবি -সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ এ ৪:০৯ PM

রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ায় এটিই তাঁর প্রথম সফর।

আজ রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের 'বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্স' টার্মিনালে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে মালয়েশিয়া সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় 'গার্ড অব অনার' প্রদর্শন করে। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিনীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তাঁর সহধর্মিনী। এ সময় মাইসা নুর আইশা নামের এক শিশু জুবাইদা রহমানের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মিস সাহানারা মনিকা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তাঁর অবস্থানকালীন হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটের পুরো সড়কপথ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সাজানো হয়। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের পাঁচতারকা ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিনী ও সফরসঙ্গীরা এই হোটেলেই অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তাঁর সাথে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম প্রমুখ। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন:

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল ঘোষণা যে কোন সময়: মুখ্য সচিব

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল ঘোষণা যে কোন সময়: মুখ্য সচিব
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ৩:০৪ PM

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ এখন চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে এবং যেকোনো সময় এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বেতন কাঠামো হালনাগাদ করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এটি বাস্তবায়নে কাজ চলছে। বাজার পরিস্থিতি ও উৎপাদন শৃঙ্খলের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদনে যে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছে, তা দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নবম বেতন কমিশনের কাজ শেষ হলে তা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে এবং অনুমোদন পেলেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে গঠিত ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি এ সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এ পর্যন্ত আটবার নতুন পে-স্কেল জারি করা হয়। এর মধ্যে সর্বশেষ বেতন স্কেলটি দেওয়া হয়েছিল ২০১৫ সালে।

শেয়ার করুন:

১৬ আগস্ট শুরু ফ্যামিলি কার্ড প্রদান: ৪ বছরে আওতায় আসছে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

১৬ আগস্ট শুরু ফ্যামিলি কার্ড প্রদান: ৪ বছরে আওতায় আসছে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ৩:৫৭ PM

কিশোরগঞ্জের লতিফাবাদ ইউনিয়ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত 'ফ্যামিলি কার্ড' কর্মসূচি। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। পরীক্ষামূলক ধাপ শেষে আগামী অক্টোবরের মধ্যে সারা দেশের সকল উপজেলা ও ইউনিয়নে এটি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত তথ্য হালনাগাদের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে এবং আগামী চার বছরে মোট ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী চার বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। এটি পরিচালিত হবে একটি ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে, যেখানে মানুষের আয় ও জীবনের মান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তথ্য আপডেট হতে থাকবে। ফলে দরিদ্র থেকে কেউ মধ্যবিত্ত হলে বা নতুন করে কেউ কষ্টে পড়লে তা তালিকায় উঠে আসবে। একইসঙ্গে যোগ্য ব্যক্তিরা যেন কার্ড পান এবং অযোগ্যরা বাদ পড়েন, সে জন্য ইউনিয়ন স্তরেই তথ্য যাচাই করা হবে। মূলত ভাতা ও সাহায্য বিতরণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই সরকারের এই উদ্যোগ।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এ কর্মসূচিতে ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিশেষ সুযোগ দেওয়া বা বঞ্চিত করার অবকাশ থাকবে না। এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার অংশ।

এ ছাড়া, সহায়তার অর্থ পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এতে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টির পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন, সেলাই ও কুটির শিল্পের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোগ বাড়বে, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

কর্মসূচির নীতিমালার সব তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত থাকবে। কার্যক্রমটি কতটা কার্যকর হচ্ছে তা মূল্যায়নে অর্থ বিভাগ, আইএমইডি এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন গবেষণা পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটির খবর এলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশের সর্বশেষ খবর | বার্তালাইভ২৪