বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী, চাপে বাংলাদেশের বাজার

বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী, চাপে বাংলাদেশের বাজার
ছবি: বার্তালাইভ২৪
অনলাইন ডেস্কবৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬ এ ৮:৪৯ AM

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ওপেকভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তের কারণে গত সপ্তাহে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০৮ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ইতোমধ্যে বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলে ভর্তুকি বাবদ প্রায় ৮ থেকে ১০ টাকা লোকসান গুনছে।

পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে পণ্য পরিবহনের ভাড়া অনানুষ্ঠানিকভাবে বেড়েছে, যার প্রভাবে নিত্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী।

অর্থনীতিবিদ ড. রেজাউল করিম বলেন, "বিশ্ববাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রায় থাকলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর বাড়তি চাপ পড়বে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে যাবে।"

সরকার আপাতত জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে থাকলেও শিল্প মহলের ধারণা, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে দাম সমন্বয় অনিবার্য হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌরশক্তি ও এলএনজির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে এই বিকল্পগুলো জ্বালানি সংকট পুরোপুরি মেটাতে সক্ষম হবে না।

শেয়ার করুন:

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্কমঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:৩১ AM

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সংযোগ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চলতি আগস্টের শুরুতে ভারত সফরের সময় দেশটির বিদ্যুৎ সচিব পঙ্কজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ। সেখানে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যসহ বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিরানা মাহরুখ জানান, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তার আশা, ভবিষ্যতে এই অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে।

বৈঠকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো, মৈত্রী বিদ্যুৎ প্রকল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় পক্ষও বিদ্যুৎ খাতে দুই দেশের চলমান কাঠামোগত সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশে ২ হাজার ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। ভারতের আদানি পাওয়ার, এনটিপিসি, সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া এবং পিটিসি ইন্ডিয়ার সঙ্গে পৃথক চুক্তির আওতায় এসব বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়।

এর মধ্যে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৮ হাজার ৩০ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করেছে।

মিরানা মাহরুখ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যুৎ সহযোগিতা শুধু বিদ্যুৎ আমদানিতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার প্রকল্পসহ রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পও দুই দেশের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সংযোগে গুরুত্ব

আগামী দিনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব। বিশেষ করে বিবিআইএন (বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল) কাঠামোর আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে পারে—এমন কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়েও ভারত সফরে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় হাইড্রোজেন ও সবুজ জ্বালানি খাতে ভারতের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রয়েছে। গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে নতুন জ্বালানি প্রযুক্তি এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপজাত ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কাজ করতে পারে বলে জানিয়েছেন মাহরুখ।

শেয়ার করুন: