বাংলাদেশে বাড়ছে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস: সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে তরুণরা

বাংলাদেশে বাড়ছে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস: সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে তরুণরা
ছবি: প্রতীকী
অনলাইন ডেস্কমঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ এ ১:১৬ PM

বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে, যার মধ্যে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থানে রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোর হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রতিদিন এই দুই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

রোগীর সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে

স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সূত্র বলছে, গত কয়েক বছরে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে এখন অনেক কম বয়সী মানুষও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আগে যেখানে মূলত মধ্যবয়সী বা বয়স্কদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যেত, এখন ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছরের মানুষদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাক ও ডায়াবেটিসের ঘটনা বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মোট মৃত্যুর একটি বড় অংশ এখন অসংক্রামক রোগের কারণে হচ্ছে। এর মধ্যে হৃদরোগ অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

কেন বাড়ছে এই রোগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনই এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। শহরমুখী জীবনে মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক কম শারীরিক পরিশ্রম করেন। দীর্ঘ সময় অফিসে বসে কাজ করা, কম হাঁটা এবং প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মানুষের দৈনন্দিন শারীরিক কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছে।

এর পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-চর্বি এবং লবণযুক্ত খাবারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ছে। যা হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো মানসিক চাপ। কর্মক্ষেত্রের চাপ, যানজট, আর্থিক উদ্বেগ এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহারও এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গ্রামাঞ্চলেও বাড়ছে ঝুঁকি

এক সময় মনে করা হতো হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস মূলত শহরের মানুষের সমস্যা। কিন্তু বর্তমানে গ্রামাঞ্চলেও এই রোগের বিস্তার বাড়ছে। প্যাকেটজাত খাবার, কোমল পানীয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শারীরিক শ্রম কমে যাওয়ায় গ্রামের মানুষও এখন একই ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

তবে গ্রামাঞ্চলে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা পান না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগ জটিল অবস্থায় পৌঁছে যায়।

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, রাত জেগে থাকার অভ্যাস এবং অনিয়মিত খাবারের কারণে তরুণদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব এবং অতিরিক্ত চিনি ও জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস তরুণদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়

চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য। সঠিক জীবনযাপন এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

নিয়মিত ব্যায়াম করা, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, ধূমপান পরিহার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এই রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া রক্তের সুগার, কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করাও জরুরি।

শেয়ার করুন:

সকালে নাকি সন্ধ্যায়? ব্যায়ামের সবচেয়ে উপকারী সময় কোনটি

সকালে নাকি সন্ধ্যায়? ব্যায়ামের সবচেয়ে উপকারী সময় কোনটি
প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদকশনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ এ ১০:৪০ AM

সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—সকালে ব্যায়াম করা ভালো, নাকি বিকেলে বা সন্ধ্যায়? বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যায়ামের উপকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, লক্ষ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ওপর।

গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, দিনের শুরুতে ব্যায়াম করলে শরীর দ্রুত সজাগ হয়ে ওঠে এবং সারাদিন কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। সকালে ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকলে নিয়মিততা ধরে রাখাও তুলনামূলক সহজ হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্রহীদের জন্যও সকালকে উপযোগী সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অন্যদিকে বিকেল বা সন্ধ্যার ব্যায়ামেরও রয়েছে কিছু বাড়তি সুবিধা। এ সময় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি থাকে, ফলে পেশি ও জোড়াগুলো বেশি নমনীয় থাকে। এতে ভারী ব্যায়াম, দৌড় কিংবা শক্তি বৃদ্ধির অনুশীলনে তুলনামূলক ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। অনেক গবেষণায় সন্ধ্যার দিকে শরীরের সহনশীলতা ও কর্মক্ষমতা বেশি থাকার তথ্যও উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কোনো সময়কে সবার জন্য সেরা বলা কঠিন। কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। যে সময় একজন ব্যক্তি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যায়ামের অভ্যাস বজায় রাখতে পারেন, সেই সময়ই তার জন্য সবচেয়ে কার্যকর।

তবে রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে অনেকের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক অনুশীলন হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ব্যায়ামের সময় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে নিয়মিত অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

শেয়ার করুন:

মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!