রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ভারত

মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল।
ব্যাট হাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে ভারত। দলের হয়ে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত। নির্ধারিত ২০ ওভারে শক্তিশালী স্কোর তোলে দলটি, যা ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাল্টা লড়াই করে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। বিশেষ করে জ্যাকব বেথেল দুর্দান্ত শতরান করে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালালেও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেনি ইংল্যান্ড।
ভারতের হয়ে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন হার্দিক পান্ডিয়া। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিং ইংল্যান্ডের রান তোলার গতি কমিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ভারতকে জয় এনে দেয়।
এই জয়ের ফলে ভারতের সামনে এখন ফাইনালের মঞ্চ। ৮ মার্চ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম-এ ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হবে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল।
ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন আরেকটি জমজমাট ফাইনালের, যেখানে দুই শক্তিশালী দলের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন।
বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়: প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারাল টাইগাররা

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।
টস জিতে বাংলাদেশ প্রথমে পাকিস্তানকে ব্যাটিং করতে পাঠায়। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। নিয়মিত উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান দল মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায়।
বাংলাদেশের হয়ে পেসার নাহিদ রানা অসাধারণ বোলিং করে ৫টি উইকেট তুলে নেন এবং পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ভেঙে দেন। এছাড়া অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এবং ৬৭ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশ মাত্র ১৫.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান তুলে সহজেই জয়ের লক্ষ্য পূরণ করে। পাকিস্তানের বোলাররা তেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।
অসাধারণ বোলিংয়ের জন্য নাহিদ রানা ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে পাকিস্তানের জন্য ঘুরে দাঁড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়ামে বুধবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে দারুণ এক ম্যাচ উপহার দিল নিউজিল্যান্ড। ওপেনার ফিন অ্যালেন-এর ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ১০০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি, যা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডগুলোর একটি হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন অ্যালেন। তাঁর বিস্ফোরক ইনিংসে ভর করে নিউজিল্যান্ড মাত্র ১২.৫ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। ফলে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে কিউইরা।
দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই যথেষ্ট হলো না
টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। আগে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬৯ রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন অলরাউন্ডার মার্কো ইয়ানসেন। তাঁর ৩০ বলে খেলা ইনিংসে ছিল কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট, যা দলকে লড়াই করার মতো স্কোর এনে দেয়।
অ্যালেন–সেইফার্টের ঝড়
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাটিং করেন। টিম সেইফার্ট ও অ্যালেন মিলে পাওয়ারপ্লেতেই তোলেন ৮৪ রান, যা চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা পাওয়ারপ্লে সংগ্রহ।
দুজনের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ১১৭ রান। সেইফার্ট ৩৩ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় করেন ৫৮ রান। পরে তাঁকে ফিরিয়ে দেন কাগিসো রাবাডা, তবে তখন ম্যাচ কার্যত নিউজিল্যান্ডের দখলে চলে গেছে।
অন্যদিকে অ্যালেন তাঁর শতরানে হাঁকান একের পর এক বাউন্ডারি। চার ও ছক্কার বন্যায় মাত্র কয়েক ওভারেই ম্যাচের রং বদলে দেন এই কিউই ওপেনার।
ফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত
এই জয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল নিউজিল্যান্ড। এর আগে ২০২১ সালেও তারা ফাইনাল খেলেছিল।
এবারের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম-এ।
অন্যদিকে আজ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম-এ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল ও ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। এই ম্যাচের বিজয়ী দলই ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে।
ফিন অ্যালেনের এই দুর্দান্ত ইনিংস ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, ফাইনালে গিয়েও কি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারে নিউজিল্যান্ড। 🏏
