টেকনোর নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হামজা চৌধুরী

টেকনোর নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হামজা চৌধুরী
ছবি সংগৃহীত
স্পোর্টস ডেস্কমঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:৩৯ AM

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তারকা হামজা চৌধুরীকে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত করেছে গ্লোবাল প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো। ফুটবল ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও বেশি পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

টেকনোর ‘Stop at Nothing’ দর্শনের সঙ্গে হামজার লড়াকু মানসিকতার মিল রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্র্যান্ডটি। প্রতিকূলতা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে মানসিকতা হামজার খেলায় দেখা যায়, সেটিকেই এই অংশীদারত্বের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে হামজা চৌধুরীকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মাঠে তার পারফরম্যান্স, দৃঢ়তা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনোভাব বিশেষ করে তরুণদের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

দেশের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হামজাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করার ঘোষণা দিল টেকনো। প্রতিষ্ঠানটি ‘টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬’-এর টাইটেল স্পন্সরও। ফলে নতুন এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের ফুটবল ও তরুণদের সঙ্গে টেকনোর সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

টেকনো বাংলাদেশের পক্ষে আইস্মার্ট ইউ টেকনোলজি বিডি লিমিটেডের সিইও রেজওয়ানুল হক বলেন, হামজার উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দৃঢ়তা এবং এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা টেকনোর ব্র্যান্ড দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, হামজাকে সঙ্গে নিয়ে প্রযুক্তি ও ফুটবলকে আরও কাছাকাছি আনার পাশাপাশি দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নতুন এই চুক্তির আওতায় টেকনোর বিভিন্ন পণ্য ও ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনে দেখা যাবে হামজাকে। বিশেষ করে আসন্ন ক্যামন সিরিজ, ফুটবলকেন্দ্রিক ডিজিটাল কনটেন্ট, ভক্তদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন এবং ভোক্তাভিত্তিক প্রচারণায় অংশ নেবেন তিনি।

এআইনির্ভর স্মার্টফোন প্রযুক্তি ও উন্নত ইমেজিং নিয়েও কাজ করছে টেকনো। হামজার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তুলে ধরা এবং দর্শকদের জন্য নতুন ধরনের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

টেকনোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে হামজা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ তার কাছে বিশেষ একটি জায়গা। দেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি টেকনোর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। সামনে ভক্তদের জন্য একসঙ্গে নতুন কিছু করার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

আগামী মাসগুলোতে হামজাকে সামনে রেখে একাধিক প্রচারণা, ফুটবলভিত্তিক কনটেন্ট ও ফ্যান অ্যাক্টিভেশনের আয়োজন করবে টেকনো। এর মাধ্যমে মাঠের ফুটবল থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—বিভিন্ন পরিসরে ফুটবলপ্রেমীদের আরও কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে ব্র্যান্ডটির।

শেয়ার করুন:

২৩৫ রানের পাহাড় ডিঙাতে পারল না পাঞ্জাব, শীর্ষে উঠল সানরাইজার্স

২৩৫ রানের পাহাড় ডিঙাতে পারল না পাঞ্জাব, শীর্ষে উঠল সানরাইজার্স
ছবি সংগৃহীত
স্পোর্টস ডেস্কবুধবার, ৬ মে, ২০২৬ এ ৮:৪৪ PM

হায়দরাবাদ, ৬ মে — টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা সানরাইজার্স হায়দরাবাদ শুরু থেকেই ঝড়ের গতিতে রান তুলতে থাকে। ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই অভিষেক শর্মা পাঞ্জাব বোলারদের ওপর আক্রমণ চালান। মাত্র ১৩ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। ট্রেভিস হেডও পিছিয়ে ছিলেন না — ১৯ বলে ৩৮ রান করেন এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। পাওয়ারপ্লে শেষে হায়দরাবাদের রান দাঁড়ায় ৭৯/১, যা এই মৌসুমে যেকোনো দলের সেরা পাওয়ারপ্লে স্কোরগুলোর মধ্যে একটি।

মাঝের ওভারে ইনিংসের মূল ভিত্তি গড়েন হাইনরিখ ক্লাসেন ও ইশান কিশান। ক্লাসেন এই মৌসুমে প্রতিটি ম্যাচেই দুই অঙ্কের রান করেছেন — আজও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শাশাঙ্ক সিং ৯ রানে তাঁকে ক্যাচ ফেলেন, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্লাসেন ৪৩ বলে ৬৯ রান করেন। ইশান কিশানের ভাগ্যেও দুটি ক্যাচ ছাড়া পড়েছিল। তিনি ৩২ বলে ৫৫ রানের দ্রুতগতির ইনিংস খেলেন। ফিট হয়ে ফেরা নিতীশ কুমার রেড্ডি শেষ দিকে ১৩ বলে ২৯ রান যোগ করেন। পাঞ্জাবের ফিল্ডিং বিপর্যয় এবং হায়দরাবাদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সমন্বয়ে দলটি ২০ ওভারে সংগ্রহ করে ২৩৫/৪।

বিশাল লক্ষ্যের সামনে পাঞ্জাব কিংস শুরু থেকেই হোঁচট খায়। পাওয়ারপ্লেতেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। এরপর একাই দলকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন কুপার কনোলি। ২২ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার যেভাবে একের পর এক বড় শট খেলেছেন, তা মাঠের দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। ৫৭ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি — এটি তাঁর ক্যারিয়ারের যেকোনো ফরম্যাটে প্রথম শতরান। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৫৯ বলে ১০৭ রান করেন কনোলি, যাতে ছিল ৭টি চার ও ৮টি ছক্কা।

তবে অন্য প্রান্তে কেউ কনোলির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি। কনোলির পর দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল মাত্র ২৮। প্যাট কামিন্স ২/৩৪ ও শিবাং কুমার ২/৪৫ নিয়ে পাঞ্জাবের ইনিংস ২০২/৭-এ সীমাবদ্ধ করেন। ফলে হায়দরাবাদ ৩৩ রানের স্বস্তিদায়ক জয় নিশ্চিত করে। হায়দরাবাদ তাদের হোম মাঠে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে টানা নবম ম্যাচ জিতল।

পয়েন্ট তালিকায় এই জয়ের ফলে সানরাইজার্স ৭টি জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। পাঞ্জাব কিংস ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও টানা তৃতীয় পরাজয়ে তাদের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আগামী ১২ মে হায়দরাবাদ তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলবে। আজ, ৭ মে বৃহস্পতিবার লখনৌতে লখনৌ সুপার জায়ান্টস মুখোমুখি হবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর।

শেয়ার করুন:

ব্যাটে-বলে আধিপত্য, হায়দরাবাদকে উড়িয়ে দিল আরসিবি

ব্যাটে-বলে আধিপত্য, হায়দরাবাদকে উড়িয়ে দিল আরসিবি
ছবি: আরসিবির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ
স্পোর্টস ডেস্করবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ এ ৮:০৫ AM

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে গতকালের ম্যাচে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বেঙ্গালুরু। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হায়দরাবাদের বিপক্ষে নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট ঘরে তোলে দলটি।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদ লড়াকু সংগ্রহ গড়ে তোলে। শুরুতে সতর্ক ব্যাটিং করলেও মাঝের ওভারে রান তোলার গতি বাড়ায় তারা। কয়েকজন ব্যাটার ঝুঁকি নিয়ে বড় শট খেলায় দলটি প্রতিযোগিতামূলক স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। তবে শেষের দিকে বেঙ্গালুরুর বোলাররা ঘুরে দাঁড়িয়ে রান আটকে রাখেন, যা পরে ম্যাচের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল বেঙ্গালুরু। ওপেনিং জুটি দলকে দৃঢ় ভিত্তি এনে দেয়। এরপর অভিজ্ঞ ব্যাটার কোহলি ইনিংসের হাল ধরেন। ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সমন্বয়ে তিনি দলকে এগিয়ে নিয়ে যান এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আসেন।

মাঝের ওভারে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও কোহলি উইকেটে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেন। অন্য প্রান্তে ব্যাটাররা প্রয়োজনীয় রান তুলে তাকে সমর্থন দেন। ফলে নির্ধারিত ওভারের আগেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে বেঙ্গালুরু।

বোলিংয়েও কার্যকর ছিল দলটি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়া এবং শেষের দিকে রান নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশলই জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের শুরুতেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে বেঙ্গালুরু। অন্যদিকে হায়দরাবাদের জন্য এটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে বোলিং বিভাগে আরও ধার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার সঠিক প্রয়োগের ফলেই এই ম্যাচে এগিয়ে ছিল বেঙ্গালুরু, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও তাদের জন্য ইতিবাচক দিক হয়ে উঠতে পারে।

শেয়ার করুন: