Bartalive24
সর্বশেষবাংলাদেশরাজনীতিঅর্থনীতিবিশ্বখেলাপ্রযুক্তিবিনোদনস্বাস্থ্যলাইফস্টাইলচাকরিমতামত

বোনের মৃত্যুর প্রমাণে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই

বোনের মৃত্যুর প্রমাণে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্কমঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ এ ২:২২ PM

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কেওঁঝর জেলায় এক নজিরবিহীন ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত বোনের ব্যাংক হিসাব থেকে মাত্র ২০ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল তুলে ব্যাংকে হাজির হন এক ব্যক্তি।

ভারতীয় একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে পাতনা ব্লকের মালিপোসি এলাকায় অবস্থিত ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায়।

জানা যায়, দিয়ানালি গ্রামের ৫০ বছর বয়সী জিতু মুন্ডা তার বড় বোন কালরা মুন্ডার (৫৬) ব্যাংক হিসাব থেকে ২০ হাজার টাকা তুলতে চেয়েছিলেন। দুই মাস আগে অসুস্থতায় মারা যান তার বোন। জীবিত অবস্থায় গবাদিপশু বিক্রি করে ওই অর্থ জমা করেছিলেন তিনি।

জিতু মুন্ডার অভিযোগ, বারবার ব্যাংকে যাওয়ার পরও তাকে বলা হচ্ছিল অ্যাকাউন্টধারীকেই উপস্থিত হতে হবে। বোনের মৃত্যুর কথা জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে দাবি তার। এতে হতাশ হয়ে তিনি কবর খুঁড়ে বোনের কঙ্কাল তুলে এনে সেটিই মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে নিয়ে আসেন।

ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি ব্যাগে আংশিক মোড়ানো কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকের দিকে হাঁটছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় থানার কর্মকর্তারা জানান, জিতু মুন্ডা একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি এবং মৃত্যুর পর ব্যাংক হিসাব পরিচালনার নিয়ম সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। এছাড়া, মৃত নারীর অ্যাকাউন্টে মনোনীত ব্যক্তিও আগে মারা যাওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়ে।

পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং কঙ্কালটি পুনরায় যথাযথভাবে দাফন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অর্থ তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক জটিলতা, সচেতনতার অভাব এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যাংকিং সেবা প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শেয়ার করুন:

ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী খাতিব নিহতের দাবি ইসরায়েলের, ফক্স নিউজের প্রতিবেদন

ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী খাতিব নিহতের দাবি ইসরায়েলের, ফক্স নিউজের প্রতিবেদন
ফাইল ছবি: ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী এসমাইল খাতিব (নভেম্বর ২০২৫)। (সূত্র: picture alliance / ZUMAPRESS.com / Iranian Presidency)
ফক্স নিউজবুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬ এ ৫:০৮ PM

ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী এসমাইল খাতিবকে লক্ষ্য করে চালানো এক হামলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের– এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, সাম্প্রতিক এক ‘নির্ভুল’ সামরিক অভিযানে খাতিব নিহত হন। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সহযোগিতা ছিল এবং খাতিব বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এর আগে তেহরানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমপ্লেক্সে চালানো হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের বহু কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করা হয়। সেই হামলা থেকে খাতিব বেঁচে গিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ অভিযানে তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দাবি, খাতিব ইরানের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ দমন, গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর যে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়, সেখানে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এর আগে খাতিবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। অভিযোগ ছিল, তার নেতৃত্বাধীন গোয়েন্দা সংস্থা সাইবার হামলাসহ বিভিন্ন গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

ইসরায়েল এর আগেও ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার দাবি করেছে, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

তবে এ ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া স্বাধীনভাবে এই হত্যার দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শেয়ার করুন:

ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্কসোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ এ ২:২৯ PM

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী খুব অল্প সময়ের নোটিশেই ওই স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালাতে সক্ষম।

ট্রাম্পের ভাষায়, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এবং দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনীর কাছে এমন সক্ষমতা রয়েছে যে চাইলে খুব দ্রুত ওই স্থাপনাকে অকার্যকর করে দেওয়া সম্ভব। তবে এখনো সে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন, এই ধরনের কঠোর অবস্থান মূলত ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনার কৌশলের অংশ। তার মতে, তেহরান আলোচনা করতে আগ্রহ দেখালেও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত শর্ত মেনে নেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছায়নি।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার কোনো অনুরোধ করেনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশটি নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় যতদিন প্রয়োজন ততদিন প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে। ওই অভিযানে একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হলেও তেল রপ্তানির অবকাঠামো অক্ষত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে বড় ধরনের হামলা হলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, সে দিকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।

শেয়ার করুন:

আরও পড়ুন

মন্তব্য (0)

বোনের মৃত্যুর প্রমাণে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই