যেভাবে পরিকল্পনা হয়েছিল খামেনেই হত্যার চক্রান্ত

যেভাবে পরিকল্পনা হয়েছিল খামেনেই হত্যার চক্রান্ত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই তেহরানে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন। ৬ মার্চ, ২০২৩। (ছবি: এএফপি)
অনলাইন ডেস্কবুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ এ ৭:০৫ AM

তিন দশকেরও বেশি সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর শনিবার সকালে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই।

১৯৮১ সাল থেকে দুটি পদে দেশ পরিচালনা করা এই নেতা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অন্যতম মূল ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যে বিপ্লব ইরানের রাজতন্ত্রকে উৎখাত করেছিল। তিনি প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে ১৯৮৯ সালে বিপ্লবী নেতা রুহুল্লাহ খোমেইনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার পদ গ্রহণ করেন।

সিআইএ কীভাবে ইসরায়েলকে তথ্য দিল?

শনিবার তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে (জিএমটি ০৬:১০) বিমান হামলা পরিচালিত হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্য তেহরানের একটি স্থাপনা, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় ও বাসভবন রয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমস বেনামি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ জানতে পেরেছিল যে শনিবার সকালে সেখানে খামেনেই এবং দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই তথ্য সিআইএ ইসরায়েলকে সরবরাহ করে, যা হামলার সময়সূচি এগিয়ে আনে।

সিবিএস নিউজও একজন বেনামি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে সিআইএ খামেনেইর অবস্থানের তথ্য ইসরায়েলকে জানিয়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লেখেন, খামেনেই মার্কিন গোয়েন্দা ও উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে রক্ষা পাননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানে তার পক্ষে কিছু করার ছিল না।

বিশ্লেষক রোজমেরি কেলানিক কানাডিয়ান সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসিকে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য, ইসরায়েলি নেটওয়ার্ক এবং স্যাটেলাইট নজরদারির সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, "আমরা ঠিক জানি সর্বোচ্চ নেতা কোথায় লুকিয়ে আছেন।" তখন ইসরায়েল খামেনেইকে হত্যার পরিকল্পনা উপস্থাপন করলেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কারণ তিনি আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা করেছিলেন।

হামলা কীভাবে পরিচালিত হলো?

যদিও রাতের অন্ধকারে হামলা পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল — যেমনটি গত বছরের 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এ করা হয়েছিল — তবে সিআইএর তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় এগিয়ে আনা হয়।

একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল একতরফাভাবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে এই হামলা পরিচালনা করে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক টার্নার সিবিএসকে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খামেনেইকে লক্ষ্য করেনি।

শনিবার ভোর ৬টার দিকে (জিএমটি ০৪:০০) ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইসরায়েলের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় দুই ঘণ্টার উড়ান শেষে তেহরানের ওই স্থাপনায় বোমা বর্ষণ করা হয়। বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান দূরপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল অস্ত্র বহন করছিল বলে জানা গেছে।

একই সময়ে মার্কিন সাইবার কমান্ড ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর করে দেয়। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন বলেন, "প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিল ইউএস সাইবারকম ও স্পেসকম — ইরানের দেখার, যোগাযোগের এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা ব্যাহত করা হয়েছিল।"

হামলার পরের পরিস্থিতি

ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে ৭৮৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলায় অন্তত ১৬৫ জন ছাত্রী ও কর্মী নিহত হন।

রোববার ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশ পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করেছে। এতে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি।

সূত্র: আল জাজিরা

শেয়ার করুন:

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে আবার রাজপথে নামার হুঙ্কার ককরোচ পার্টির

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে আবার রাজপথে নামার হুঙ্কার ককরোচ পার্টির
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬ এ ৪:০৫ PM

আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে পুনরায় কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে তরুণদের প্রতিবাদী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, টানা ৩৬ দিন আন্দোলনের পর যে তিনটি আশ্বাসের ভিত্তিতে সিজেপি তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছিল, তার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া। তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শত শত শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেফতার এবং নজরদারির মাধ্যমে হেনস্তা করা হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে নতুন করে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে সোমবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এক এক্স বার্তার মাধ্যমে সমঝোতা ভঙ্গের তীব্র অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার শর্ত থাকলেও বর্তমানে তা প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ইতোমধ্যেই শত শত শিক্ষার্থী গ্রেফতার হয়েছেন এবং দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে শিক্ষার্থীদের নজরদারির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। তা ছাড়া, দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবকদের আটকের ঘটনা তুলে ধরে একে চুক্তির শতভাগ বরখেলাপ বলে চিহ্নিত করেন তিনি।

আরো বলেন না মানলে যন্তর মন্তরে আবারও বড় আন্দোলন

আন্দোলনকারীদের নামে হওয়া সব এফআইআর বাতিল এবং আটককৃতদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর পুলিশ আর কোনো মামলা দেবে না—এই মর্মে লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে। তা না হলে যন্তর মন্তরসহ পুরো দেশজুড়ে নতুন করে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে টানা ৩৬ দিনের উত্তাল আন্দোলনের চাপে গত ২৫ জুলাই পদত্যাগ করেন ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই সময় সরকার কথা দিয়েছিল, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের রাজ্য সরকার রাজপথের বিক্ষোভ দমনে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্প্রতি কলকাতায় সিজেপি সমর্থিত বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর ‘শিয়ালদহ-ডোরিনা ক্রসিং’ মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ এনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এবং নতুন আইন প্রয়োগের ঘোষণা দেন। এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

শেয়ার করুন:

ভারতের পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র

ভারতের পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ এ ৩:৫৮ PM

শিক্ষার্থীদের জোরদার আন্দোলনের মুখে দেশের পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে উদ্যোগী হলো কেন্দ্র। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নব্য গঠিত এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানিকে। রোববার সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই তথ্য জানান। সম্প্রতি ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা 'নিট'-এর প্রশ্ন ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগে সারাদেশে ছাত্র-আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

টাস্কফোর্স দ্রুত পরীক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের প্রস্তাব পাঠাবে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, তাদের সুপারিশ অনুযায়ী আগামী পরীক্ষাগুলোতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। মূলত পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও জালিয়াতিমুক্ত করতে সরকার প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপের দিকেই এগোচ্ছে।

শেয়ার করুন: