ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্কসোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ এ ২:২৯ PM

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী খুব অল্প সময়ের নোটিশেই ওই স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালাতে সক্ষম।

ট্রাম্পের ভাষায়, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এবং দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনীর কাছে এমন সক্ষমতা রয়েছে যে চাইলে খুব দ্রুত ওই স্থাপনাকে অকার্যকর করে দেওয়া সম্ভব। তবে এখনো সে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন, এই ধরনের কঠোর অবস্থান মূলত ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনার কৌশলের অংশ। তার মতে, তেহরান আলোচনা করতে আগ্রহ দেখালেও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত শর্ত মেনে নেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছায়নি।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার কোনো অনুরোধ করেনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশটি নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় যতদিন প্রয়োজন ততদিন প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে। ওই অভিযানে একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হলেও তেল রপ্তানির অবকাঠামো অক্ষত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে বড় ধরনের হামলা হলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, সে দিকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।

শেয়ার করুন:

ইরানে মার্কিন হামলা, বিশ্ববাজারে ফের বাড়লো তেলের দাম

ইরানে মার্কিন হামলা, বিশ্ববাজারে ফের বাড়লো তেলের দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬ এ ৮:১৪ AM

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির আশা ম্লান করে ইরানে আবারও মার্কিন সামরিক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকস্মিক এই পদক্ষেপের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেল প্রতি প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির গুঞ্জন চলায় তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। কিন্তু হঠাত করেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ড্রোন ঘাঁটিতে 'আত্মরক্ষামূলক' নতুন হামলা চালালে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ফলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সপ্তাহের শুরুতে প্রায় ১০০ ডলারে স্পর্শ করেছিল।

এই হামলার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'স্ট্রেইট অব হরমুজ' বা হরমুজ প্রণালী দ্রুত সচল হওয়ার সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হয়ে গেল। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা এই সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি মজুদ আশঙ্কাজনক স্তরে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই সামরিক উত্তেজনা বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আরও বাড়বে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি এবং পরিবহন খরচ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইউনিসেফ তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে

বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইউনিসেফ তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে
ছবি ‌‌-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ এ ৪:২৬ PM

দেশে সম্প্রতি শিশু ও নারীদের ওপর বর্বর সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটির মতে, শিশুরা যে জায়গাগুলোতে নিরাপদে থাকার কথা, সেখানেই এখন নির্মমতার শিকার হচ্ছে। শুক্রবার ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এক বিবৃতিতে জানান, শিশুদের ওপর চলমান এই পাশবিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

রানা ফ্লাওয়ার্স তাঁর বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন ও পাশবিক নির্যাতন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতি দেশজুড়ে শিশু এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দেয়। তিনি অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতির অবসান দাবি করেন এবং একই সাথে প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সহিংসতা রিপোর্টিং, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশু-বান্ধব পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা এবং সামাজিক সেবা খাতের ঘাটতিগুলো দ্রুত দূর করার তাগিদ দেন।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সমাজের নীরবতার সুযোগেই সহিংসতা ডালপালা মেলে। তাই সহিংসতা, নির্যাতন বা শোষণের ঘটনা ঘটলে তা চেপে না রেখে অবিলম্বে শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮-সহ অন্যান্য সুরক্ষা সেবার মাধ্যমে রিপোর্ট করার জন্য ইউনিসেফের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বিবৃতিতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের পরিচয় কিংবা কোনো ছবি-ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এক ধরনের মানসিক পুনর্নির্যাতন। যারা এই ধরণের কনটেন্ট শেয়ার বা রি-শেয়ার করছেন, তারা মূলত ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মানসিক বেদনা ও ট্রমাকে আরও গভীর করে তুলছেন।নারী ও শিশুদের সামগ্রিক মানসিক ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি। এর পাশাপাশি তিনি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, সামাজিক এলাকা এবং কেয়ার সেন্টারসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা আরও বৃদ্ধির তাগিদ দেন।ফলশ্রুতিতে, সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতি ভুক্তভোগীদের আইনি ও মানবিক অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট ছবি-ভিডিও প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিশেষে রানা ফ্লাওয়ার্স উল্লেখ করেন যে, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার কিংবা গণপরিসর—যেকোনো জায়গাতেই শিশুদের ছবি বা বিবরণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সামগ্রিক সুরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করতে তিনি সবাইকে সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তোলার তাগিদ দেন।

শেয়ার করুন: